Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

উপজেলার ঐতিহ্য

ভূ-প্রাকৃতিকভাবে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় কোথাও কোথাও দোআঁশ মাটি পাওয়া গেলেও অধিকাংশ মাটি বেলে দোআঁশ প্রকৃতির ‘বালিয়াডাঙ্গী ’- শব্দটির শাব্দিক বিশ্লেষণ করলে দাড়ায়  বালিয়া অর্থাৎ বালি এবং ডাঙ্গী অর্থাৎ ডাঙ্গা বা উঁচু জায়গা। বালিয়াডাঙ্গী মৌজা উপজেলার অন্যান্য গ্রাম গুলোর থেকে তুলনামূলকভাবে উঁচুতে অবস্থিত। বালিমাটির আধিক্যের কারণে মৌজার নাম বালিয়াডাঙ্গী হয়েছে বলে মনে করা হয়। বালিয়াডাঙ্গী মৌজায় বালিয়াডাঙ্গী থানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মৌজার নাম অনুসারে থানার নামও বালিয়াডাঙ্গী হয়। ১৯৮৩ সালে বালিয়াডাঙ্গী থানা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় রুপান্তরিত হয়।

 

উপজেলা পরিচিতিঃ                      

পাখির কুঞ্জনে যেখানে ভোর হয়, ঝিঁ ঝিঁ ডাক স্বাগত জানায় স্বর্ণালী সন্ধ্যাকে; নুয়ে পড়া নীলাকাশ আর সবুজ দ্বিগমেত্ম মিতালী যেখানে নিবিড়, বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমের সেই জনপদটির নাম বালিয়াডাঙ্গী। উত্তর প্রামেত্ম কাঞ্চনজঙ্ঘার অবিরাম হাতছানি আর জমিনের আঁচল হয়ে বয়ে চলা নাগর নদীর নিটোল স্রোত এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে এঁকেছে সরলতার উল্কি চিহ্ন। স্বভাবত:ই তাই এই অঞ্চলের মানুষেরা সহজ-সরল জীবন যাপনে অভ্যস্থ।

 

ঐতিহাসিক ঘটনাবলীঃ

২৬ শে মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর বাঁধ ভাঙ্গা আহক্ষানে বাংলার আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বালিয়াডাঙ্গীর দামাল ছেলেরাও থেমে থাকেনি। ১৩ই এপ্রিল ১৯৭১ তাঁরা ভারতের ইসলামপুর জেলার অন্তর্গত ঠাকুর বাড়ী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প তৈরী করেন। প্রথমে ৩১৫ জন নিয়ে একটি দল গঠিত হয়। দলটি পরিচালনা করেন মিত্র বাহিনীর কাপ্টেন সুবাস চন্দ্র। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সদর উদ্দিন। ৬নং সেক্টরের ক শাখায় তাঁরা অন্তর্ভূক্ত ছিল। বালিয়াডাঙ্গীতে মোট ৪টি গ্রুপ ছিল। পার্টি কমান্ডার ছিলেন : ১। জনাব আব্দুল মান্নান, ২। জনাব তরিকুল ইসলাম, ৩। মো: রেসাল উদ্দিন ও ৪। জনাব সাখাওয়াত হোসেন। ঠাকুর বাড়ী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন মো: রেসাল উদ্দিন (সিরিয়াল নং-১৯)।  সর্বপ্রথম পাক বাহিনী হরিনমারীতে আক্রমণ করে। এরপর খোকসা, কুশলডাঙ্গী, রায়মহল, গুঞ্জুরা এলাকায় পর্যায়ক্রমে আঘাত আনে। পাক বাহিনীর ক্যাম্প ছিল খোচাবাড়ী, দোলুয়া, লাহিড়ী, মোড়ল হাটে। আর্মি ক্যাম্পের হেড কোয়ার্টার ছিল বালিয়াডাঙ্গীতে। পাক বাহিনী বালিয়াডাঙ্গীতে নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও নিষ্পেষন চালায়। বালিয়াডাঙ্গীতে মোট মুক্তিযোদ্ধা ২৫০ জন (সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী)। বালিয়াডাঙ্গীতে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানীভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৬১ জন (সূত্র : সমাজ সেবা অধিদপত্মর, বালিয়াডাঙ্গী)। মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা বালিয়াডাঙ্গীবাসী চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে।

 

ক্ষুদ্র নৃ-ত্ত্বাত্তিক জনগোষ্ঠী:

আবহমান কাল ধরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাঁওতাল আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে আসছে। বিশ্রামপুর, পাড়িয়া, ধনতলা, মধুপুর গ্রামে রয়েছে প্রায় ৩৭টি পরিবারের বসাবাস। এদের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে লালিত নিজস্ব জীবনধারা ও বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। জীবন ও জীবিকার প্রধান উপায় কৃষিকাজ। নারী ও পুরুষ উভয়ই কর্মঠ এবং মাঠে কাজ করে থাকে। প্রধান খাদ্য ভাত। মাছ, শূকর, ইঁদুর, কাঁকড়া, কাঠবিড়ালী গুইসাপ ইত্যাদি তাদের প্রিয় খাদ্য । সাঁওতালেরা মদ্যপানে অভ্যস্থ এবং বিভিন্ন উৎসবে মদ্যপান করে থাকে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে নাচ-গান করে থাকেন। সাঁওতালদের প্রধান উৎসবের মধ্যে রয়েছে সোহ্রাই উৎসব, মাঘসিম উৎসব ও বসমত্ম উৎসব।